সবচেয়ে কম রান রেট ও কম  স্ট্রাইক রেট বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্দশার আরও জ্বলন্ত উদাহরণ। দশ দলের মধ্যে স্ট্রাইক রেটে সবার নিচে বাংলাদেশ। সাকিবের দল প্রতি ১০০ বলে রান তুলেছে ৭৩.৪৫। একমাত্র সহযোগী দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া নেদারল্যান্ডসের স্ট্রাইক রেটও বাংলাদেশের চেয়ে ভালো। ডাচরা প্রতি ১০০ বলে ৭৩.৭৮ রান তুলেছে।

স্ট্রাইক রেট সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ আফ্রিকার; ১১০.২২। এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৫ বার ৩০০ রানের বেশি করা দলও দক্ষিণ আফ্রিকা।

বিশ্বকাপে ওভারপ্রতি মাত্র ৪.৬১ রান তুলে বাংলাদেশ যেন এটাও বুঝিয়ে দিয়েছে, এখনো ওয়ানডের সেকেলে ধারা থেকে বেরোতে পারেনি। এ তালিকাতেও বাংলাদেশের ওপরে আছে নেদারল্যান্ডস। ডাচরা ওভারপ্রতি ৪.৮১ রান তুলেছে। শুধু বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসেরই ওভারপ্রতি রান রেট ৫-এর কম।

দ্রুত রান তোলায় সবার ওপরে দক্ষিণ আফ্রিকা। কুইন্টন ডি কক-হাইনরিখ ক্লাসেনরা ওভারপ্রতি ৬.৯২ রান তুলেছেন। ওভারপ্রতি ৬-এর বেশি রান তুলেছে আরও চার দল—নিউজিল্যান্ড (৬.৪৮), অস্ট্রেলিয়া (৬.২৫), পাকিস্তান (৬.১২), ভারত (৬.১২)।


নাজমুল হাসান যেন ব্যাটিংটাই ভুলে গেছেন। ছবি: আইসিসি


অভিজ্ঞ তামিমকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে গেছে বাংলাদেশ। তামিমের পরিবর্তে কোনো বিকল্প ওপেনারকেও রাখা হয়নি। লিটন দাস ও তানজিদ হাসান প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলেও প্রতি ম্যাচেই তাঁদের খেলানো হচ্ছে। বেশির ভাগ ম্যাচে তিনে নামা নাজমুল হোসেন যেন ব্যাটিংই ভুলে গেছেন! সর্বশেষ ৬ ম্যাচের একটিতেও দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি নাজমুল। মেহেদী হাসান মিরাজকেও মাঝেসাজে ওপরে তুলে আনা হলেও লাভ হয়নি।

প্রথম পাওয়ার প্লেতে সবচেয়ে বেশি উইকেট হারানো, স্ট্রাইক রেট ও রান রেটে তলানিতে থাকাটা যেন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভরাডুবির কারণগুলোই আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।